এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর—মঙ্গলবারের সেই সকালটি শুরু হয়েছিল আর দশটি দিনের মতোই। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিউইয়র্কসহ পুরো বিশ্বের চিত্র বদলে যায়। ২৫ বছর পরও সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতি ভুলতে পারেননি নিউইয়র্ক পোস্ট-এর দীর্ঘদিনের পুলিশ রিপোর্টার ল্যারি সেলোনা।
সেদিন তিনি টেলিভিশনে দেখেন, একটি বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আঘাত করেছে। ম্যানহাটনে পৌঁছানোর সময় টুইন টাওয়ার ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে। চারদিকে ঘন ধোঁয়া, ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত ছাই, ধ্বংসস্তূপ, ভাঙা ভবন ও মানুষের আতঙ্ক—পুরো এলাকা যেন অবিশ্বাস্য কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্য। কিন্তু সেটি কোনো সিনেমা ছিল না; ছিল বাস্তবের ভয়াবহতা।
সেলোনা জানান, রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সগুলো আহতদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু অনেক আহত মানুষ আর আসেননি। কফি কার্টগুলো পড়ে ছিল, ডোনাট ও ব্যাগেল ছাইয়ে ঢেকে গিয়েছিল। চারদিকে ছিল পোড়া গন্ধ, ধুলো, পেঁচানো ইস্পাত ও কংক্রিটের বিশাল স্তূপ। তিনি বহু অপরাধের ঘটনা কভার করলেও ৯/১১-এর ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না বলে জানান।
ঘটনার পর তিনি জানতে পারেন, বহু পুলিশ কর্মকর্তা ও অগ্নিনির্বাপক নিখোঁজ। তাদের মধ্যে ছিলেন তাঁর পরিচিত NYPD গোয়েন্দা জোসেফ ভিজিয়ানো। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভিজিয়ানোও কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন। এরপর পুলিশ সদর দপ্তরে নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিক সেলোনা তাদের অসীম অপেক্ষা, বেদনা ও প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আশার সাক্ষী হন।
২৫ বছর পরও সেই পরিবারগুলোর কথা তিনি ভুলতে পারেননি। অনেক পরিবার প্রিয়জনকে হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে সন্তানদের বড় করেছে। তাদের কেউ কেউ পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তা, অগ্নিনির্বাপক, শিক্ষক ও আইনজীবী হয়েছেন।
সেলোনার উপলব্ধি—৯/১১-এর বীরত্ব শুধু সেই দিন উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়া পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; যারা প্রিয়জনকে হারিয়ে জীবনকে আবার গুছিয়ে নিয়েছেন, সেই পরিবারগুলোর মধ্যেও বীরত্ব ছিল।
৯/১১-এর ২৫ বছর পরও সেই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয়—মানুষ হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু তাদের স্মৃতি, আত্মত্যাগ ও সাহস কখনো হারিয়ে যায় না।