এক রক্তক্ষয়ী গণ অভ্যুথানের মাধ্যমে অর্জিত বর্তমান জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হতে যাচ্ছে। এই সংসদে আমরা জাতীয় জীবনের নানা সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে প্রাণবন্তু আলোচনা করেছি।
আমাদের প্রতিটি আলোচনা কার্যকর এবং অর্থবহ হয়েছে আমি এমনটি দাবি করবোনা, তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আমরা আমরা জাতীয় এই সংসদকেই সকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানাতে চাই, তবে আমি বিশ্বাস করি ইতোমধ্যেই আমরা সকলেই সেই সদিচ্ছার প্রমান করতে পেরেছি। আমি এই জাতীয় সংসদকে কার্যকর এবং প্রাণবন্তু রাখার জন্য সকল সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
এই জাতীয় সংসদের প্রতি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা অনেক।আমরা যদি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি তাহলে আমাদেরকে জনগণের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এ জন্যই আমি এবং আমার সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিন থেকেই জনজীবনে সমৃদ্ধি শান্তি এবং নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে চলছি।
আপনি জানেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছিল। জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে তাদের মূল্যবান রায় দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। কার্যকর সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলও সরকারের অংশ। আমরা তাই বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়েই দেশ এবং জনগণের কল্যানে কাজ করতে চাই। ১৭ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বিএনপি জনগণের কাছে দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করে চলেছে।
আমরা কি ধরণের পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি সেটি নতুন করে বলার অবকাশ নেই। গ্যাস বিদ্যুৎ, শিল্প কারখানা, শিক্ষা ব্যবস্থা, ব্যাঙ্কিং ব্যাবস্থাপনা প্রতি সেক্টরেই দুর্নীতি আর অনিয়মের পাহাড়। এটি বিরোধী দল যেমন জানেন, জনগণও জানে। আমি সেইসব কথা আজ আবার নতুন করে বলে সংসদের মূল্যবান সময় অপচয় করতে চাইনা। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের সেইসব সমস্যাকে আমরা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেও সময়ক্ষেপন করতে চাইনা। বরং সমস্যা মোকাবেলা করে জনজীবনে শান্তি স্বস্তি এবং নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশে গ্যাস বিদ্যুতের কারণে জনগণের সাময়িক ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সচেতন। এই সমস্যা হঠাৎ করেই সৃষ্টি হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশীয় সোর্স থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো চেষ্টাই করা হয়নি।
বরং দেশকে সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর রাষ্ট্রের পরিণত করে ফেলেছিলো। অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যই ছিল আমাদের গ্যাস আমদানির প্রধান উৎস্য। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার ১০/১২ দিনের মাথায় মধপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকেগ্যাস তেল আমদানির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়। এরইমধ্যে বাংলাদেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে
বাড়তি বিপদ যোগ হয়। এ কারণেই বর্তমানে গ্যাস বিদ্যুতের জন্য জনগণকে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
এই সমস্যা মোকাবেলায় আমরা বিরোধী দলের কাছে সহযোগিতা আশা করেছিলাম। অথচ আমরা দেখলাম, সহযোগিতা দূরের কথা উল্টো বিরোধী দলের বন্ধুরা
বিশাল গাড়ির বহর নিয়ে ‘লং মার্চ’ করেছে।
জনগণকে অযথা উত্তেজিত করার অপচেষ্টা করে
পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পথ বেঁচে নিয়েছে।
গাড়ির বহর নিয়ে লং মার্চ করে গ্যাস বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হলে
এই লং মার্চে আমরাও অংশ গ্রহণ করতাম।
আমি একটি তথ্য সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই…
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে তখন অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩ টা করা হয়েছিল। স্কুলের ছুটি ১ দিন থেকে বাড়িয়ে দুইদিন করা হয়েছিল। ব্যাংকের লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল।
কোনো অজুহাত তুলে আমরা জনগণের দুর্ভোগ থেকে এড়িয়ে যেতে চাইনা, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, যারা ২০০৯ সাল থেকে একটানা বছরের পর বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলো তাদেরকেও বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবেলায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছিল। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে কুইক রেন্টাল বসিয়ে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা খরচ করেও তারা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে পারেনি।
অথচ বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা দায়িত্ব নেয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যেপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে আমাদের গ্যাস আমদানিও তীব্রভাবে বাধাগ্রস্থ। এর পাশাপাশি দুইটি এলএনজি টার্মিনালের একটি নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্ছ চেষ্টা করছি। এই সমস্যা বিএনপি সরকারের সৃষ্ট সমস্যা নয়. এই সমস্যাগুলো আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। এই বাস্তবতা বিরোধী দলও জানে। সবাই জানেন।
জনগণের সামনে বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরার দায়িত্ব বিরোধী দলেরও রয়েছে। কিন্তু তারা যদি দায়িত্ব পালন না করে উল্টো উস্কানিমুলক আচরণ করে তাহলে আমি সতর্ক করে দিয়ে বলতে চাই, এই আচরণ সরকার কিংবা বিরোধী দল কারো জন্যই লাভজনক হবেনা বরং পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্রই লাভবান হবে।
সরকার গ্যাস বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবেলায় কি ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদে একাধিকবার এ ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।
আজ আমি আর বিস্তারিত বলতে চাইনা..তবে মাননীয় স্পিকার আমি আপনার মাধ্যমে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, ইতোমধ্যেই আমরা যথাসম্ভব বেশকিছু ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা আশা করি শিগগিরই দেশে বিদ্যুতের সাময়িক সমস্যার অবসান হবে, একইসঙ্গে দেশকে আমদানি নির্ভরতা থেকে বের করার বিস্তারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজও ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
এতদিন আমরা আমদানি নির্ভর উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের গ্রাহক ছিলাম, সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বিশ্বেস করে ‘সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমরা শুধু গ্রাহক নয় ‘সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদক’ হবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের সেই সক্ষমতা রয়েছে।
আমাদের এই আত্মবিশ্বাসের কারণ আমাদের অভিজ্ঞতা
আমাদের এই আত্মবিশ্বাসের কারণ বিএনপির অতীত ইতিহাস। বিএনপি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ততবারই দেশকে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছে। ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত দেশ এবং জনগণের প্রতিটি সংকটে
স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি দেশের হাল ধরেছে এবং সফল হয়েছে।
দেশের সিনিয়র সিটিজেনদের অবশ্যই মনে আছে….
তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে ৭০ দশকের শেষ দিকে
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে রপ্তানি নির্ভর দেশে পরিণত করেছিলেন। উপসাগরীয় দেশগুলোতে ছিল অতিরিক্ত পুঁজি আর আমাদের ছিল বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। সেই বৈশ্বিক বাস্তবতা উপলব্ধি করে শহীদ জিয়া বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য,
বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিকে আমূল বদলে দিয়েছিলেন।
৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পরও ৯১ সালের নির্বাচনে দেশের জনগণ বিএনপিকেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলো। সেই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়া দেশে শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছিলেন। নারী শিক্ষায় বিপ্লব ঘটিয়ে ছিলেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা ব্যাপকভাবে শ্রমবাজারে অংশ নিয়েছিল। সেই সময় প্রায় দুই কোটি মানুষ দারিদ্রসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছিলো।
যখনই দেশের জনগণ অবাধ এবং নিরপেক্ষভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, বিএনপিকেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা নিঃসন্দেহে ভুলে যাইনি,
২০২৪ সালে রক্তক্ষয়ী গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের বীর ছাত্র জনতা যেই ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে সেই অপশক্তি ২০০১ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে জুলাই মাসে রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। এরপর সেই দুর্নীতিগ্রস্থ রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে সঠিক পথে আনার জন্য দেশে গণতন্ত্রকামী জনগণ বিএনপিকেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলো। সুশাসন দিয়ে বিএনপি সরকারই দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে দেশকে মুক্ত করেছিল।
২০০১ সালে জনরায়ে প্রত্যাখ্যাত অপশক্তি ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ২০০৯ সালে আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে।
তারা জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালানোর আগে পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে রেখেছিলো। তাদের দুঃশাসন দুর্নীতি লুটপাট আর টাকা পাচারের কারণে বাংলাদেশকে শীর্ষ ঋণখেলাপি’র অপবাদ সইতে হয়েছে। এই ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার দায়িত্ব এখন
বিএনপির কাঁধে।
পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তি ‘ঋণখেলাপি পরিমানে’র হিসেবনিকেশও পাল্টে দিয়েছিলো ২০২৪ সালে খেলাপি ঋণের পরিমান দেখানো হয়েছিল মাত্র ১১ শতাংশ। অথচ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে দেখা যায়, ১১ শতাংশ নয় খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতেই বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে
বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বর্তমানে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে। অর্থাৎ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে শুরু করেছে।
ফ্যাসিস্ট চক্রের অনাচারের কারণে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নে’র কলঙ্ক থেকে বিএনপি যেভাবে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছিল একই চক্রের কারণে ২০২৬ সালে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ‘ঋণখেলাপি’র কলঙ্ক থেকেও বাংলাদেশকে মুক্ত করবে ইনশাআল্লাহ।
বৈদেশিক ঋণের ভারে জর্জরিত একটি রাষ্ট্র আমরা পেয়েছি। যারা বাংলাদেশকে ঋণের ভারে জর্জরিত করেছে তাদের অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে এখন সেই ঋণও পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার গত পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ
রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। এখনো আরো হাজার হাজার কোটি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বাকি।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাঙ্ক বীমা অর্থকরি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভঙ্গুর পরিস্থিতি। এর পাশাপাশি রাষ্ট্র এবং সমাজে ধর্মীয় সামাজিক পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এখন দৃশ্যমান। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল।
বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে। বাক স্বাধীনতা অবারিত। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, ‘বাক স্বাধীনতা’ যেন ‘বাক শালীনতার’ সীমা ছাড়িয়ে না যায়।
‘গালাগালি’ যেন আমাদের “রাজনৈতিক সংস্কৃতি’তে পরিণত না হয় এ জন্য আমাদের সবাইকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা ভূমিকা পালন করতে হবে।
আমি মনে করি, পারিবারিক পরিবেশে আমরা যেসব কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করিনা জনপরিসরেও সেই ধরণের শব্দ বলা উচিত নয়। যদি আপনারা সবাই একমত হন, আসুন তাহলে আমরা গালাগালি’র সংস্কৃতি বিরুদ্ধে
ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করি।
এই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে লাখো মানুষ জীবন দিয়েছেন। ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ অভ্যুত্থানের সময় গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ন্যায়পরায়ণতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সকল শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা আমাদের কর্তব্য বলেই আমি মনে করি। গণতন্ত্রকামী জনগণ একটি দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এবং আরেকটি দলকে বিরোধী দলীয় ভূমিকা পালনের জন্য রায় দিয়েছে।
সুতরাং, সরকারি দল এবং বিরোধী দল আমরা সবাই মিলে আসুন আমরা সবাই মিলে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলি। আমি বারবার একটি কথা বলি, সবার আগে বাংলাদেশ …সবার জন্য বাংলাদেশ।
সবশেষে আমি গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে আমার একটি আহবান, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ বিরোধ কিন্তু শেষপর্যন্ত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তির পুনরুত্থানের পথ সুগম করবে। এটি যেন আমরা ভুলে না যাই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে।
কিন্তু মতভিন্নতাকে যেন শত্রুতায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে