ঢাকা: দেশকে পুনর্গঠনে তরুণ সমাজকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী তিন মাস দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক তরুণ, বিএনসিসি সদস্য, স্কাউট, গার্ল গাইড, কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। একইভাবে দেশের সব জেলাতেও স্বেচ্ছাসেবীরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি খাতে প্রায় ২৩ লাখ স্টাফ রয়েছেন। এর বাইরে বিএনসিসির সদস্য রয়েছেন প্রায় ২২ হাজার। প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, উচ্চবিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক কোটি। এত বিশাল তরুণ ও শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠী যদি দেশ পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে আসে, তাহলে তাদের কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে—দেশটাকে কীভাবে আমরা গড়ে তুলব। এই দেশটা আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী তিন মাস সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হয়তো আমরা ১০০ শতাংশ সফল হতে পারব না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারব।’
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়া যথেষ্ট নয়; বরং যে পরিবেশে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার জন্ম হয়, সেটি ধ্বংস করতে হবে। বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা কাগজ, প্লাস্টিক, ভাঙা পাত্রসহ যেসব জায়গায় পানি জমে থাকে, সেগুলো পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষ অসচেতনভাবে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেললে তার প্রভাব শুধু তার নিজের ওপর পড়ে না। সেই ময়লা থেকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পরিবারের সদস্য, স্বজন কিংবা আশপাশের মানুষের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ‘নিজেকে সুস্থ রাখি, নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি, নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি, নিজের দেশকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করি।’
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেকে নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ, কর্মস্থল কিংবা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অন্তত এক ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতার কাজে সময় দিতে পারেন। পাশাপাশি রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।
তরুণ সমাজের শক্তির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তরুণ সমাজ পরিবর্তনের সূচনা করে সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে তরুণরা চাইলে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এবার সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, ‘যারা ময়লা করবে, যারা আবর্জনা তৈরি করবে, আমরা তাদের নিরুৎসাহিত করি। আমরা তাদের বলি—ময়লা করবেন না।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণ, স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, তারা এই কাজে তার সঙ্গে আছেন কি না। উপস্থিত সবাই সম্মতি জানালে তিনি বলেন, আগামী দিনের মূল লক্ষ্য হতে হবে—‘পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন।’
শেষে তিনি একটি পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন সমাজ এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।