ঢাকা: সমাজে যার যে অর্জন, তার যথাযথ স্বীকৃতি দিলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, সমাজে বিদ্যমান সবকিছুতে ‘আমি’র পরিবর্তে আন্তরিকভাবে ‘আমরা’ শব্দটি ধারণ ও ব্যবহার করতে পারলে সমাজ আরও সুন্দর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) ১০ম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে শ্রমিক। তাঁদের শ্রমের ধরন ও কর্মক্ষেত্র কেবল ভিন্ন।’
সমাজের প্রান্তিক শ্রমিক, অসহায় ও দুস্থ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, ন্যায্য মজুরি কোনো করুণা নয়, এটি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য। সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আস্থায় নির্বাচিত বর্তমান সরকার তাঁদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
টেকসই শিল্প ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং নিয়মিত ত্রিপক্ষীয় সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কার এনে সব শ্রমিকের আইনি স্বীকৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের উপযোগী ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, কর্মক্ষেত্রে সম-অধিকার, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং যেকোনো মূল্যে শিশুশ্রম সম্পূর্ণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সূচনা বক্তব্য দেন বিলসের প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপি; শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আবদুর রহমান তরফদার; আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুটন; নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর মিসেস জান্না ভ্যান ডার লিন্ডেনসহ উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতারা।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খানের উদ্যোগে বিলস প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ১২টি জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন বিলসের সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। যৌথ দর-কষাকষি ও শ্রমিকদের অন্যান্য অধিকার বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা বিলসের অন্যতম প্রধান কাজ।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান লাইব্রেরি ও বিলস তথ্যকেন্দ্র’-এর উদ্বোধন করেন।