শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ
সবার আগে বাংলাদেশ’—জাতীয় প্রতিশ্রুতির বার্তা নিয়ে বাংলাদেশ বেতারের পাক্ষিক বিশেষ অনুষ্ঠান আমার ৩০ বছরের হোটেল-জীবনের অভিজ্ঞতা: কেন ইউনিয়ন হোটেলের চাকরি আমার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ Thirty Years in the Hotel Industry: Why a Union Hotel Job Matters So Much to Me কানাডার প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ট্রাম্পের ‘কমিউনিস্ট সপ্তাহ’: মামদানি ও শি জিনপিংকে ঘিরে কূটনীতি মঙ্গল গ্রহে বসবাসের স্বপ্ন ইলন মাস্কের, জানালেন মা মে মাস্ক `সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার গল্প শুনালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে লিগ্যাল অফিসার জাইমা রহমান মারণাস্ত্র নয়, যুক্তি-তর্ক ও কূটনীতি হোক বিশ্বশান্তির হাতিয়ার: জাতিসংঘে তারেক রহমান

আমার ৩০ বছরের হোটেল-জীবনের অভিজ্ঞতা: কেন ইউনিয়ন হোটেলের চাকরি আমার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ

রিপোটার:
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ Time View

প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)

যুক্তরাষ্ট্রে আমার হোটেল-জীবনের প্রায় ৩০ বছর। নিউইয়র্কের বিভিন্ন হোটেলে কাজ করতে গিয়ে আমি শুধু জীবিকা অর্জন করিনি; শিখেছি মানুষের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কাজ করা, কঠোর পরিশ্রমের মূল্য বোঝা এবং একটি ভালো চাকরি একটি পরিবারের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হোটেলশিল্পের জীবন সহজ নয়। অতিথির মুখে হাসি ফোটাতে অনেক সময় নিজের ক্লান্তি ভুলে কাজ করতে হয়। কখনো ভোরে, কখনো গভীর রাতে, আবার কখনো ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়। বড় অনুষ্ঠান হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়। তবুও দিনের শেষে একজন অতিথি সন্তুষ্ট হয়ে ধন্যবাদ জানালে অনেক কষ্টই যেন সার্থক মনে হয়।

দীর্ঘ কর্মজীবনে আমি একটি বিষয় গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি—একজন শ্রমিকের জন্য শুধু বেতনই যথেষ্ট নয়; সম্মান, অধিকার এবং পরিবারের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণেই ইউনিয়নভুক্ত হোটেলের চাকরি আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

ইউনিয়নের মাধ্যমে একজন কর্মী কর্মক্ষেত্রে একা থাকেন না। ন্যায্য মজুরি, ওভারটাইম, ছুটি ও অন্যান্য কর্মসংক্রান্ত অধিকার নিয়ে কথা বলার একটি সংগঠিত ব্যবস্থা থাকে। একজন শ্রমিক যখন জানেন যে তার শ্রমের মূল্য রয়েছে এবং নিজের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ রয়েছে, তখন কর্মজীবনে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।

তবে আমার কাছে ইউনিয়ন চাকরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্যসেবা।

আমরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করি, যেখানে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক বিষয় হতে পারে। জীবনের কোন সময় চিকিৎসার প্রয়োজন হবে, তা কেউ জানে না। তাই নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য ভালো স্বাস্থ্যবীমা থাকা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন পরিবারের কর্তা হিসেবে আমি মনে করি, পরিবারের নিরাপত্তা শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের ওপর নির্ভর করে না। পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চয়তাও নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই দীর্ঘ কর্মজীবন আমাকে শিখিয়েছে—একটি ভালো চাকরি মানুষের বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎও গড়ে দিতে পারে।

হোটেলের বেতন দিয়ে সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা, পরিবারের খরচ বহন করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা—এসবই একজন শ্রমজীবী মানুষের বাস্তব জীবন। এর সঙ্গে ভালো স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য কর্মী সুবিধা যুক্ত হলে একটি চাকরির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

আমার কর্মজীবনে অনেক সহকর্মীকে দেখেছি, যারা বছরের পর বছর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। কেউ রান্নাঘরে, কেউ হাউসকিপিংয়ে, কেউ রেস্টুরেন্টে, কেউ ব্যাংকুয়েট বা রুম সার্ভিসে। কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও সবার একটি পরিচয় একই—তারা শ্রমিক এবং তারা সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে চান।

আমার কাছে হোটেলের কোনো কাজই ছোট নয়। অতিথির একটি টেবিল সুন্দরভাবে সাজানো থেকে শুরু করে কয়েকশ মানুষের বড় একটি অনুষ্ঠানের সার্ভিস—প্রতিটি কাজের পেছনে রয়েছে শ্রম, সময়, দক্ষতা ও দায়িত্ব।

৩০ বছর পেছনে তাকালে চোখের সামনে ভেসে ওঠে অসংখ্য স্মৃতি—ব্যস্ত রাত, বড় বড় অনুষ্ঠান, ক্লান্ত শরীর, সহকর্মীদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা, আনন্দের মুহূর্ত এবং কখনো কঠিন সময়। সবকিছু মিলিয়েই আমার হোটেল-জীবনের গল্প।

আজও আমি বিশ্বাস করি, শ্রমিকের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার পরিশ্রম, সততা ও পেশার প্রতি নিষ্ঠা। আর সেই পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য পাওয়া তার ন্যায্য অধিকার।

নতুন প্রজন্মের যারা হোটেলশিল্পে আসছেন, তাদের প্রতি আমার পরামর্শ—শুধু ঘণ্টাপ্রতি বেতন দেখে চাকরি বেছে নেবেন না। স্বাস্থ্যবীমা কী, পরিবার কী ধরনের সুবিধা পাবে, অবসর সুবিধা কী, ওভারটাইমের নিয়ম কী এবং কর্মক্ষেত্রে আপনার অধিকার কতটা সুরক্ষিত—এসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করুন।

কারণ আমার ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা আমাকে একটি শিক্ষা দিয়েছে:

চাকরি শুধু বেতন পাওয়ার জায়গা নয়। একটি ভালো চাকরি একজন মানুষের সম্মান, পরিবারের স্বাস্থ্য, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।

আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। এই দীর্ঘ কর্মজীবনে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি, অসংখ্য ভালো মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি এবং নিজের শ্রম দিয়ে পরিবারকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।

আজও যখন হোটেলে কাজ করতে যাই, মনে হয়—প্রায় ৩০ বছর আগে যে মানুষটি এই পেশায় পা রেখেছিল, তার স্বপ্ন হয়তো খুব বড় ছিল না। শুধু চেয়েছিলাম সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং নিজের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পেতে।

এই তিনটি বিষয়—সম্মান, ন্যায্য মজুরি ও পরিবারের নিরাপত্তা—আমার কাছে আজও একটি ভালো চাকরির প্রকৃত অর্থ।

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো খবর

খুলনায় জমি বিক্রি হবে

খুলনা-যশোর বিশ্বরোডে মোস্তফার মোড়ের নিকটে টুটুল নগর আবাসিক এলাকায় এখনই বাড়ি করার উপযোগী ১০ শতক জমি বিক্রি হবে। ডিজিটাল খাজনা খারিজ করা। সম্পূর্ণ নিষ্কন্টক। বিশ্ব রোড থেকে ২০ ফিট রাস্তা, ভেতরে ১৫ ফিট রাস্তা। উচু জমি।

যোগাযোগ: মো. মহসিন হোসেন-০১৭১১৭৮৩৮৬৮

 

© All rights reserved © 2022 deshnews24.com
Theme Customized By Max Speed Ltd.