যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী ১০ নভেম্বরের পর এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠকের পর এ তথ্য জানানো হয়।
ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের জানান, সম্ভাব্য আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ ও চূড়ান্ত কর্মসূচি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুদ্ধের অবসান, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধবিরতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, সংঘাত থামাতে প্রথমে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই বন্ধ করার বাস্তবসম্মত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এখনো মতপার্থক্য রয়েছে
শান্তি আলোচনার উদ্যোগ সত্ত্বেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইউক্রেনের দখলকৃত ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে বিরোধ শান্তিচুক্তির পথে বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক দফা ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছিল। তবে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের বাইরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।
শান্তির পথে নতুন সুযোগ?
নতুন করে আলোচনার সম্মতি যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ। তবে আলোচনার উদ্যোগ বাস্তবে যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিন পক্ষের মধ্যে সমঝোতা, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভূখণ্ডসংক্রান্ত বিরোধের গ্রহণযোগ্য সমাধান জরুরি। আলোচনা শুরু হলেও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আরও কঠিন কূটনৈতিক পথ পাড়ি দিতে হতে পারে।