মদ, দুগ্ধজাত পণ্য ও মোটরসাইকেল আমদানিতে নতুন বিধিনিষেধ
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)
ওয়াশিংটন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬—কানাডা থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মদ ও অ্যালকোহলিক পানীয়, কিছু দুগ্ধজাত পণ্য এবং মোটরসাইকেল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে নতুন আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার আরও একটি নতুন ধাপ।
কোন কোন পণ্যে নিষেধাজ্ঞা
২০২৫ সালের বাণিজ্য তথ্যের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কানাডীয় পণ্যের মোট মূল্য প্রায় ৯৬৭ মিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৮৭ শতাংশই অ্যালকোহলিক পানীয়।
এ ছাড়া কিছু দুগ্ধজাত পণ্য—এর মধ্যে দুধের উপজাত whey-ও রয়েছে। কানাডার বাজারে মার্কিন দুগ্ধপণ্যের প্রবেশ এবং কানাডার উচ্চ শুল্কনীতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
কানাডার কুইবেকভিত্তিক কোম্পানি Bombardier Recreational Products (BRP) জানিয়েছে, তাদের তিন চাকার Can-Am Spyder ও Canyon মোটরসাইকেলও যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।
বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপটি এসেছে কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের পর। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, কানাডা মার্কিন দুগ্ধ, গাড়ি ও অ্যালকোহল শিল্পের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
এর জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যের ওপর ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ করে।
ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞার সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। কারণ নিষিদ্ধ পণ্যগুলোর অনেকগুলোর ওপর আগে থেকেই উচ্চ শুল্ক কার্যকর ছিল, যা আমদানিকে ব্যয়বহুল করে তুলেছিল।
তবে কানাডার ছোট ও মাঝারি মদ উৎপাদকদের ওপর প্রভাব বেশি পড়তে পারে। কানাডার অন্টারিওর একটি ডিস্টিলারি ইতোমধ্যে মিশিগানে হুইস্কি পাঠানো বন্ধ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু বড় কোম্পানি অবশ্য বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমাতে পারে। যেমন Crown Royal তাদের হুইস্কি বাল্ক আকারে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ পেতে পারে। আবার Labatt-এর যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বোতলজাতকরণ কার্যক্রম রয়েছে।
উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার এই বাণিজ্য বিরোধ USMCA (United States-Mexico-Canada Agreement)-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। চুক্তিটির অধীনে উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে অধিকাংশ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে বাণিজ্য করার সুযোগ রয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। কানাডা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত ও চীনের সঙ্গেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।
কানাডার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল ব্রুনে বলেছেন, তাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার ও ব্যবসাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বহুমুখী করা।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মনে করেন শেষ পর্যন্ত কানাডা একটি চুক্তিতে আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার এই বাণিজ্য বিরোধ দ্রুত শেষ হওয়ার পরিবর্তে আরও কয়েক মাস চলতে পারে। নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা শুল্ক দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও চাপের মধ্যে ফেলেছে।