প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)
ঢাকা-ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ। এর ফলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং উড়োজাহাজের মোট নতুন অর্ডার দাঁড়াবে ২৫টিতে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় বুধবার ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়। বোয়িং জানিয়েছে, নতুন অর্ডারের মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়ানো, প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতির চাপ কমানো এবং বাংলাদেশি রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য শুল্ক বৃদ্ধির ঝুঁকি কমানোর প্রচেষ্টার সঙ্গেও এই চুক্তির সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প হওয়ায় শুল্ক ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ বোয়িংয়ের সঙ্গে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের ১৪টি উড়োজাহাজের চুক্তি করেছিল। ওই চুক্তিতে ১০টি ড্রিমলাইনার ও চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স ছিল এবং উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহের কথা রয়েছে। নতুন ১১টি যোগ হওয়ায় বিমানের বহর আধুনিকীকরণ ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আরও বড় হলো।
বাংলাদেশের বিমান বহর আধুনিকীকরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও নতুন রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যেও এই কেনাকাটা করা হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সময়ে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে সরকারের একটি কারিগরি কমিটি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনও বোয়িং কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করে এটিকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য “উভয় পক্ষের লাভজনক” পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।