বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

নিজ দেশে নয়, আফ্রিকার তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

রিপোটার:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ Time View
Screenshot

মো. নাসির, নিউ জার্সি প্রতিনিধি

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে নিজ দেশে ফেরত না পাঠিয়ে কিছু অভিবাসীকে আফ্রিকার বিভিন্ন তৃতীয় দেশে পাঠানোর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে কয়েক ডজন অভিবাসীকে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে আফগানিস্তান ও ইরানের নাগরিকও রয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ একটি ফ্লাইটে ১২ জন আফগান, ৮ জন ইরানি এবং নেপাল ও নিকারাগুয়ার কয়েকজন নাগরিককে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হয়েছে।

এ ধরনের ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে “third-country deportation” বা তৃতীয় দেশে বহিষ্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তিকে তার নিজ দেশে না পাঠিয়ে অন্য একটি দেশকে সেই ব্যক্তিকে গ্রহণ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করছে বা চুক্তির আওতায় অভিবাসীদের স্থানান্তর করছে।

লাইবেরিয়াও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের গ্রহণ শুরু করেছে। আগস্টে প্রথম দফায় ২০ জন অভিবাসী সেখানে পৌঁছেছেন এবং চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে আরও অভিবাসী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এসওয়াতিনিও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৃতীয় দেশের নাগরিক গ্রহণ করছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে আরও দুইজনকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। এর আগে একই ব্যবস্থায় ৩০ জনের বেশি মানুষকে এসওয়াতিনিতে পাঠানো হয়েছে। (Reuters⁠)

তবে এই নীতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইনজীবীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, যেসব মানুষকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠালে নির্যাতন বা অন্য কোনো গুরুতর বিপদের আশঙ্কা রয়েছে, তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হলে তারা নতুন করে অনিশ্চয়তা, আটক বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে পড়তে পারেন।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় কয়েকজন অভিবাসী লাইবেরিয়ায় নামতে অস্বীকৃতি জানান এবং দাবি করেন, সেটি তাদের নিজ দেশ নয় এবং সেখানে গেলে তারা বিপদের মুখে পড়তে পারেন। পরে তাদের ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো হয় বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের অপসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—অভিবাসন আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রত্যেক ব্যক্তির ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তার অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

বিশেষ করে যুদ্ধ ও সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে কাউকে পাঠানোর ক্ষেত্রে মানবিক ও আইনি ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো কয়েকজনের ক্ষেত্রেও আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের এই নতুন প্রবণতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষা কতটা বজায় রাখা হচ্ছে?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই জাতীয় আরো খবর

খুলনায় জমি বিক্রি হবে

খুলনা-যশোর বিশ্বরোডে মোস্তফার মোড়ের নিকটে টুটুল নগর আবাসিক এলাকায় এখনই বাড়ি করার উপযোগী ১০ শতক জমি বিক্রি হবে। ডিজিটাল খাজনা খারিজ করা। সম্পূর্ণ নিষ্কন্টক। বিশ্ব রোড থেকে ২০ ফিট রাস্তা, ভেতরে ১৫ ফিট রাস্তা। উচু জমি।

যোগাযোগ: মো. মহসিন হোসেন-০১৭১১৭৮৩৮৬৮

 

© All rights reserved © 2022 deshnews24.com
Theme Customized By Max Speed Ltd.