মনিরুল ইসলাম : শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের মহাসচিব জাকির হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে শিক্ষকদের উন্নয়নে প্রথম কাজ করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি শিক্ষকদের মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা ও আর্থিক উন্নয়নের জন্য যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা আজও শিক্ষক সমাজ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।
রাজধানীর শুক্রাবাদের নিউ মডেল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে শেরে বাংলা নগর থানা শিক্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষকসমাজ জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের আমলে শিক্ষকসমাজের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যাতে শিক্ষকরা ন্যায্যা অধিকার পেয়ে উপকৃত হন। এখনও শিক্ষকরা যেসব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বিএনপি ক্ষমতা থাকলে তা আদায় হতো। বিএনপি আবার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে শিক্ষকসমাজের দাবি আদায় হবে।
তিনি আরও বলেন,“অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া আমাদের শিক্ষক সমাজের গর্ব। তিনি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়ে ১৭ দিন একই কাপড়ে ছিলেন, কারাগারে কষ্ট সহ্য করেছেন। এ রকম আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়। তাঁর মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব থাকায় শিক্ষক সমাজ আজও আশাবাদী হয়ে সামনে এগোচ্ছে। আমরা তাঁর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।

তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে শিক্ষক সমাজ নানা সংকটে রয়েছে। শিক্ষা বাজেট বৃদ্ধি, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষকরা অবহেলিত ও উপেক্ষিত। অথচ দেশের উন্নয়নে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে
অধ্যাপক রোকেয়া চৌধুরী বলেন, “শিক্ষক সমাজ শুধু জ্ঞান বিতরণই করেন না, তাঁরা জাতি গঠনের মূল কারিগর। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের রাষ্ট্রে শিক্ষকদের প্রতি যতটা সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নত না হলে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নও সম্ভব নয়। তাই শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান বলেন, “শিক্ষক ছাড়া জাতি গঠন সম্ভব নয়। অথচ বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষকদের প্রতি যতটা সম্মান দেখানো উচিত, তা করা হচ্ছে না। শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা হাওলাদার আবুল কালাম আজাদ, মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক রোকেয়া চৌধুরী বেবি, শাহনাজ পারভীন ও অধ্যাপক মফিজ, অধ্যাপক আব্দুল হাকিম । তাঁরা সবাই শিক্ষকদের পেশাগত সমস্যা, সম্মান ও সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
এ ছাড়াও অত্র থানার শিক্ষক-শিক্ষিকা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল মফিজ শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ গড়তে তাঁরা নিয়মিত সভা, সেমিনার ও কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানান।