মনিরুল ইসলাম : বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মির্জা আব্বাস জামায়াতে ইসলামের প্রতি ইংগিত করে মির্জা আব্বাস বলেছেন, একটি দল লম্বা লম্বা কথা ছাড়া সুকৌশলে চাঁদা নেয়া ছাড়া, সুকৌশলে হাদিয়া নেয়া ছাড়া কোনো কাজ নাই। টাকা নিয়েছেন বসুন্ধরার কাছ থেকে। সিটি গ্রুপের কাছ থেকে। আরও কোন কোন গ্রুপের কাছ থেকে টাকা খান আমাদের জানা আছে। সব কিছুর হিসাব হবে।
তিনি বলেন, গায়ের জোরে কথা বলেন। নিজের পায়ে জোর নাই। এরশাদের সময়ে এরশাদের কাঁধে ভর করেন, আওয়ামী লীগের সময়ে আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করেন, বিএনপির সময়ে বিএনপির কাঁধে ভর করেন আর লম্বা লম্বা কথা বলেন। এখন বিএনপি ওদের একমাত্র মাথা ব্যথা, বিএনপিকে যদি শেষ করে দেয়া যায় তাহলে উনার রাজত্ব করতে পারবে।
সোমবার বিকালে এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর বিএনপি উত্তর-দক্ষিনের যৌথ উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং মিটফোর্ড এলাকায় প্রকাশ্যে লালচাঁদ সোহাগকে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিল হয়। ফকিরেরপুল থেকে শুরু করে কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোরার মোড় পর্যন্ত মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মীরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। মিছিলটি বিজয় নগর দিয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি জনপ্রিয় দল, এই দলকে দেশের জনগণ ভালোবাসে। এই দলকে সহজে জনগণের মন থেকে উঠিয়ে ফেলা যাবে না যত ষড়যন্ত্রই করেন।একটি কথা না বললেই নয়, এক লোক, এক লোকের দল… আমি নামটা তার বলতে চাই না।ওই লোকটি এবং তার দল(ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ) যারা বলছে, শ্লোগান দিচ্ছে, আওয়ামী লীগ গেছে যেই পথে বিএনপি যাবে সেই পথে। আরে বেটা এত সহজ নাকি এটা… এতোই সহজ। আমাদের কোথাও যাওয়ার রাস্তা নাই। এই বাংলাদেশ আমাদের স্থায়ী ঠিকানা। এই লোকটি এবং তার দল-বল বিএনপিকে এখন সহ্য করতে পারছে না কিন্তু আওয়ামী লীগকে ঠিক সহ্য করতেন।
‘২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে যখন হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপরে হামলা করা হয়েছিল এই চরমোনাইয়ের পীর সাহেব কোথায় ছিলেন? উনি কি মুসলমানদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন? দাঁড়ায় নাই।‘‘ কে দাঁড়িয়েছে? বিএনপি দাঁড়িয়েছে?’ বলেন তিনি।
বলেন,তারা তারেক রহমানকে সহ্য করতে পারছে না। কেনো লাভ নাই তারেক রহমান তার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
ন্যাশনাল রিপালিক পার্টির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ আরেকটা আছে যে কী বলে বাংলাদেশ চিলড্রেন্স পার্টি… এই চিলড্রেন্স পার্টির অনেকে এখন তারেক রহমান সম্পর্কে কথা বলেন, জিয়াউর রহমান সম্পর্কে কথা বলেন।
আরে ভাই তোমাদের দাদাও তো জিয়াউর রহমানকে চিনে… কী সমস্ত কথা বলে এরা। এখন এই সমস্ত লোকের কথা-বার্তা শুনে আমাদের বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নাই।
মহানগর দক্ষিনের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকও বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুব দলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না প্রমূখ নেতারা ছিলেন।