জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে জাতীয় নির্বাচনের কোন বিকল্প নাই। বাংলাদেশের সকল গনতন্ত্রকামি রাজনৈতিক দলের মত আমরাও আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছি।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজ ২০২৫ সালের জুন মাসের ৩০ তারিখ। বছর ঘুরে আমরা ঐতিহাসিক জুলাই মাসের দ্বারপ্রান্তে। যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে স্বাধীনতার স্বাদ দিয়েছিল। যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী দুঃশাসন থেকে মুক্ত করেছিল। আগত জুলাই মাসের দ্বারপ্রান্তে আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদদের স্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে জাতীয় নির্বাচনের কোন বিকল্প নাই। বাংলাদেশের সকল গনতন্ত্রকামি রাজনৈতিক দলের মত আমরাও আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছি। একই সাথে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রক্রিয়া দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি নির্বাচন এবং সংস্কার নিয়ে আমরা যতটা আগ্রহী, বিচার নিয়ে ততটাই উদাসীন। আমাদের দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দল,জাতীয় নেতৃবৃন্দ এমনকি হাজারো শহিদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় বসা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বক্তব্যে, নির্বাচন এবং সংস্কার নিয়ে যত কথা শুনা যায় তার শতভাগের দশ ভাগও বিচারের কথা শুনা যায় না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূরণ হওয়ার পূর্বেই আমরা জুলাই গণহত্যাকে ভুলতে বসেছি। আমরা ভুলে গেছি পিলখানা গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, মোদী বিরোধী আন্দোলনের গণহত্যা, লগি-বৈঠা গণহত্যা। আমরা ভুলে গেছি গনহত্যাকারি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের।
রাশেদ প্রধান আরও বলেন, নির্বাচন এবং সংস্কারকে সামনে রেখে আমরা ভুলে গেছি আয়নাঘরের কথা। আমরা ভুলে গেছি আওয়ামী গুমের কথা, খুনের কথা, হামলা-মামলার কথা। আমরা ভুলে গেছি দেশের মানুষের অর্থ ও সম্পদ লুটপাটের কথা, দেশের অর্থ বিদেশে পাচারের কথা। আমরা ভুলে গেছি সারে পনেরো বছরের দুঃশাসনের কথা। আমরা ভুলতে বসেছি অপরাজনীতির অশুভ শক্তি আওয়ামী লীগের কথা।
জাগপা মুখপাত্র বলেন, যুদ্ধটা শুধুমাত্র শেখ হাসিনা আর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছিলনা।আমাদের সংগ্রাম এবং লড়াই শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাথে সাথে আগ্রাসী ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও ছিল। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নয় বরং বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্য বানিয়ে ভারতের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতেন। গনহত্যাকারি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিল্লি সরকার আশ্রয় দিয়ে তাই প্রমাণ করেছে। নির্বাচন এবং সংস্কারকে সামনে রেখে আমরাভারত কর্তৃক অতীতে সীমান্তে হত্যা, ভূমি দখল, পানির ন্যায্য হিস্যা না দেওয়া, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ভুলে গেছি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরেও সীমান্ত হত্যা এবং ক্রমাগতঅবৈধ পুশ-ইন দেখেও না দেখার ভান করছি।
সকলের মত আমরাও সংস্কার চাই। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ,গ্রহণযোগ্য এবং ভারতীয় প্রভাবমুক্ত নির্বাচন চাই। একই সাথে বিচার এবং ভিনদেশি প্রভুর হাত থেকে মুক্তি চাই, নাজাত চাই।
আর তাই আমরা স্পষ্ট ভাষায় জাগপা’র ৩ টি দাবি উত্থাপন করছি।
১/ গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় প্রদান, সীমান্তে হত্যা, ভূমি দখল, অবৈধ পুশ-ইন, পানির ন্যায্য হিস্যা না দেওয়া, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপসহ সব বিষয়ে ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দিতে হবে।
২/ জুলাই, পিলখানা, শাপলা, মোদী বিরোধী আন্দোলন এবং লগি-বৈঠা গণহত্যার দায়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার করতে হবে।
৩/ গুম, খুন, হামলা, মামলা, লুটেরা, অর্থপাচারকারী ও অপরাজনীতির অশুভ শক্তি সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ-এর বিচার করতে হবে।
সন্মানিত উপস্থিতি,
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে, আগামীর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জাগপা’র কর্মসূচি ঘোষণা করছি।
• জুলাই মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ তারিখ জুলাই শহিদদের স্মরণে এবং জুলাই মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ তারিখ জুলাই আহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
• জুলাই মাসের বাকি ২৯ দিন ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে,গণহত্যার দায়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারএবং সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ-এর বিচারের দাবিতে ৮ টি বিভাগীয় শহর এবং জাগপা’র ২০ টি সাংগঠনিক জেলায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।
• অগাস্ট মাসের ৫ তারিখ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী দুঃশাসনের হাত থেকে মুক্তি অর্থাৎ বাংলাদেশের নাজাত দিবসে শুকরান নামাজ পড়া হবে।
• গনহত্যাকারি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ১ বছর ভারতে আশ্রয় দেওয়ার প্রতিবাদে এবং খুনি হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবিতে ৬ আগস্ট ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও করা হবে।