বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেছেন, অন্তবর্তী সরকারের কাজ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। আশা করবো তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে জাতিকে আস্বস্ত করবে।
সম্প্রতি নয়াপল্টনে তার নিজ কার্যালয়ে দেশনিউজ২৪.কমের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মহসিন হোসেনের সঙ্গে দেশের রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তার সঙ্গে আলোচনার একটা অংশ দেশনিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
নির্বাচন প্রশ্নে দেশে না রকম কথা চলছে এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে একটা সংশয় দেখা দিয়েছে। কারনটা হলো এই অন্তবর্তী সরকারের জন্য আমরা ১৬টি বছর স্বৈরাচারী হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে আনলাম। যে আন্দোলন ছিল একটি দাবি আদায়ের আন্দোলন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট হোক। যে ভোটে এদেশের মানুষ অংশগ্রহণ করবে এবং নিরপেক্ষতার মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটা গণতান্ত্রিক সরকার আসবে। সেই ভোটে যদি জনগণ চাইতো শেখ হাসিনার সরকারও আসতে পারতো। অথবা বিএনপি আসতো। কিন্তু শেখ হাসিনা সেই নির্বাচন দেয়নি। উনি যে নির্বাচন দিলেন সেই নির্বাচনগুলি ছিল অনেক প্রশ্নবিদ্ধ।
একদিকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হলো সেটা ছিল ফখরুদ্দিন-মইন উদ্দিনের পরিকল্পিত একটা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে এই শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলেন। তারই নেতৃত্বে ২০১৪ সালে আর একটি প্রহসনের নির্বাচন হলো, ২০১৮ সালে মধ্যরাতে নির্বাচন, সর্বশেষ ২০২৪ এর ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে পশু প্রাণী ছাড়া কেউ ভোট দিতে যায়নি। এসব নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আমরা লক্ষ্য করলাম কবরবাসীও ভোট দিয়েছিল। তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মী মামলার আসামী হয়েছে। শত শত নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম করা হয়েছে। এই যে মামলা হয়েছে এ বিষয়ে সাংবাদিকরাসহ সবাই জানে যে গায়েবী মামলা হয়েছে। কবরবাসীদের নামেও মামলা হয়েছে। সেই মামলায় আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ১৬বছর নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। নির্বাসনে থাকা অবস্থায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হলেও তিনি একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাকেও মামলার আসামী করা হয়েছিল। দেশটায় এমন অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল যে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। তার একটিমাত্র কারণ ছিল যেভাবে হোক শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতেই হবে। তাতে দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব থাকুন বা না থাকুক তাতে কিছু আসে যায় না।
বর্তমানে অন্তবর্তী সরকারতো বলছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন দেবে এ বিষয়ে আপনাদের মনোভাব কি?
অন্তবর্তী সরকার একটা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। সবাই জানে যে এত কিছুর পরে যে সরকারটা আসছে, এত হত্যা, এত গুম তারপর এই সরকারটা আসছে। সবার আসা ছিল এই সরকার এসে একটা নির্বাচন দেবে। কিন্তু এখানে আমরা একটা ব্যতিক্রম বিষয় লক্ষ্য করছি, সেটা হলো নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা একটা সংস্কারের কাজে হাতে দিয়েছে। সংস্কার একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। একটা দেশের সরকার যে কোনো সময় জাতির প্রয়োজনে যেকোনো বিষয়ে সংস্কার করতে পারে। এটার জন্য কোনো টাইম ফ্রেম বেধে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই সরকার আসছে দ্রুত যে সমস্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হত্যা, গুম, খুন লুটপাটের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার করতে পারে। এই কাজের জন্য একটা টাইমফ্রেম দিতে পারে। সেদিন মাগুরায় আছিয়া নামের একটা শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সেটার বিচার কিন্তু ২১ দিনের মাথায় হয়েছে। সেই বিচারটা যদি ২১ দিনের মাথায় হতে পারে তাহলে কেন শেখ হাসিনা গংদের বিচার এক দুই মাসের মধ্যে করতে পারে না। তারতো অনেক মামলা। এত মামলার বিচার করা সময়ের ব্যাপার কিন্তু যে কোনো একটারতো বিচার দ্রুত করতে পারে। এজন্য আমরা বলতেছি যে এই সরকারের মধ্যে আবার শেখ হাসিনার ভুত চাপলো কি না। অর্থাৎ ক্ষমতার লোভে তারা আবার ওই পথে ধাবিত হচ্ছে কি না।
তিনি বলেন, বর্তমান অন্তবর্তী সরকার একটা সময় দিয়েছে ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন করবে। ঠিক আছে ভাল কথা। কিন্তু আপনি একটা তারিখ ঘোষণা করেন দেন যে এত তারিখে নির্বাচন হবে। সামনে রমজান আছে। আপনি বলে দেন যে ৮ ফেব্রুয়ারি হবে অথবা ২৮ ফেব্রুয়ারি হবে। অথবা মার্চে হবে। একটা তারিখে ঘোষণা করলে সমস্যাটা কোথায়? নির্বাচন কমিশন কিন্তু বলছে আমরা প্রস্তুত। ডিসেম্বরে নির্বাচন করার জন্যও কমিশন প্রস্তুত। তাহলে সরকার কেন প্রস্তুত না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মচারীরাতো ভোট কেন্দ্রে যাবে না। ভোট কেন্দ্রে যারা যাবে, ভোট গ্রহণ করবে, তারা যখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত তাহলে সরকার কেন প্রস্তুত না। এজন্যই আমাদের মধ্যে একটা সন্দেহের দানা বেধেছে। তারপরও গতকাল ড. ইউনূস সাহেব বলেছেন। সেখানে পদত্যাগের একটা বিষয় আমরা শুনেছিলাম। তখন আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পদত্যাগ করার জন্য আপনাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আপনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দ্রুত একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য। আপনি থাকেন। কিছু জায়গায় একটা প্রশ্ন আছে। এই সরকারের মধ্যে আর একটা সরকার। এই সরকারের মধ্যে যে ছাত্র প্রতিনিধি আছে তাদের বক্তব্যগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। তারা কখনো বলেন, উপজেলা নির্বাচন, কখনো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ইউনিয়ন নির্বাচন পরিষদ আর উপজেলা নির্বাচনের জন্যতো এত লোক মারা যায়নি। ছাত্ররা যে কোটাবিরোধী আন্দোলন করেছিল সেই আন্দোলনে তারা সফল হয়েছে। তারা কিন্তু ডিবিতে আটক থাকা অবস্থায় আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। কিন্তু আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কিন্তু বলেছেন আন্দোলন প্রত্যাহার হবে না। হাসিনার বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তারই নেতৃত্বে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
আগামী নির্বাচনে আপনাদের দলের ফলাফল কেমন হবে বলে আশা করেন?
তিনি বলেন, আমরা শতভাগ নিশ্চিত যে আগামী নির্বাচনে আমরা বিজয়ী হবো। কারণ দেশের এখন যে পরিস্থিতি তাতে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জনগণ তারেক রহমানের নেতৃত্বে আশাবাদি। তারা মনে করে যে তার নেতৃত্বে একটি ভাল সরকার হবে। ৮০ভাগ মানুষ মনে করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বেই আগামী সরকার গঠিত হবে। তবে এখানে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একটা কথা বলেছেন যে আমরা সরকার গঠন করলেও আমরা একটা জাতীয় সরকার গঠন করবো। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিসহ ৬৪টা দল আন্দোলনে ছিল। তারাও অনেকে আহত হয়েছেন, মামলা খেয়েছেন, অর্থাৎ তারাও নির্যাতনের বাইরে ছিলেন না। সেজন্যই আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, একটা কল্যাণমুলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করবেন।
দেশনিউজ২৪.নেটের পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আপনার মাধ্যমে পাঠকদেরও ধন্যবাদ।