নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। উন্নত উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু খাদ্যে স্বনির্ভরতা নয়, বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
আজ শুক্রবার বগুড়ার মম ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত ‘কৃষি উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা ও নাগরিক সমস্যা নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা” শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, এ জন্য প্রয়োজন কার্যকর নীতি ও বিনিয়োগ। পাশাপাশি কৃষকের অধিকার রক্ষা করতে হবে—ঋষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে, যেন তারা উৎপাদনে উৎসাহ পায় এবং টেকসই কৃষি নিশ্চিত হয়। কৃষি খাতের উন্নয়নই দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।
তাছাড়া, পরিবেশ রক্ষা ও নাগরিক কল্যাণে পরিকল্পিত নগরায়ণ, বায়ু ও পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সবুজায়ন কর্মসূচি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, এবং সুপেয় পানির নিশ্চয়তা জরুরি। নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করাও প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপেই টেকসই ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবন নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখার আলোকে দেশের তরুণ সমাজকে নীতি-প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এক মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।
শুরুতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড: জুলকারিন জাহাঙ্গীর তার বক্তৃতায় কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার কিভাবে বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারে তার বিশদ বর্ণনা দেন।
তিনি বলেন, এআই বীজ, সার, কীটনাশক ও পানি ব্যবহারের সঠিক সময় ও পরিমাণ নির্দেশ করে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সেচের সময় বা সারের মাত্রা জানিয়ে খরচ ও অপচয় যায়।
সরাসরি এসএমএস বা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে কৃষকরা ভর্তুকির তথ্য পাবেন, যা দালালদের হস্তক্ষেপ রোধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
এআই বাজারচাহিদা ও দামের পূর্বাভাস দিয়ে কৃষকদের লাভজনক বিক্রির কৌশল দেবে।
জাহাঙ্গীর বলেন, স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটির উপযোগী ফসলের জাত, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়ে এআই-নির্দেশনা উৎপাদনশীলতা বাড়াবে।
এআই-চালিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা দেবে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং কৃষি রপ্তানিতে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক করবে।
এআই কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ কৃষিতে টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন
তিনি ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি আধুনিকীকরণ এবং কৃষকদের বীমা সুবিধায় নিয়ে আসার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় নদী পুনরুদ্ধার, বনায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেন। যানজট, আবাসন ও সবুজ অঞ্চলের মতো নগর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্ট শহর ও গণপরিবহন আধুনিকীকরণের প্রস্তাব করেন । জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় “জলবায়ু সহনশীলতা তহবিল” ও কঠোর পরিবেশ আইনের আহ্বান জানান।
হাজ্জাজ রাজনৈতিক ঐক্য ও যুবশক্তিকে দক্ষ করে করে সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান কৃষি, পরিবেশ ও নগরায়ণ খাতে বিএনপির নীতিগত সংস্কার ভাবনা তুলে ধরেন ।
তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি কৃষিপণ্য ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন, শস্য ও প্রাণিসম্পদ বীমা চালু, রফতানিমুখী কৃষি প্রক্রিয়াকরণে প্রণোদনা, নদী পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঢাকাসহ নগরগুলোতে বায়ুদূষণ, পানির সংকট ও যানজট মোকাবেলায় একটি জাতীয় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। তরুণদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক খেলার মাঠ, বহুমাত্রিক শিল্পায়ন এবং গৃহহীনদের আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের ভোটাধিকার এবং অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
আমরা চাই, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র—যেখানে কৃষক, শ্রমিক, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত হবে। বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তিনি যোগ করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
তিনি বলেন, “এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের যারা সরাসরি বিএনপির সঙ্গে জড়িত নন, কিন্তু নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন তাদের সম্পৃক্ত করা। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষমতায়ন ও একীভূতকরণের মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতের জন্য সর্বোত্তম নীতিগুলো তৈরি করতে চাই। দেশের জন্য সেরা নীতি প্রণয়নে আমরা সেরা মানুষের মতামত শুনতে চাই, যাতে জনগণ বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে আমরা প্রস্তুত থাকতে পারি।”
সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন স্ট্র্যাটেজিক এনালিস্ট, সিডনি ওয়াটার অস্ট্রেলিয়ার ড. ফয়সাল কবীর শুভ; সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী কাজী জেসিন; আবহাওয়া ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল পলাশ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হক; এইচ আর বিশেষজ্ঞ শারমিন সুলতান জয়া এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা