লেখক: মঞ্জুরুল ফয়সাল হক
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) শিল্প আজ দেশের প্রধান রপ্তানি খাত এবং প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা আসে এই খাত থেকে। কিন্তু প্রযুক্তি ও গ্লোবাল কম্পিটিশনের চাপে, আমাদের এই শিল্পকে নতুনভাবে ভাবতে হবে—আর সেটি শুরু হবে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে।
দক্ষতা উন্নয়নের সময় এখনই
চীন ও ভারত ইতোমধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর বড় আকারে বিনিয়োগ শুরু করেছে। চীনে গত তিন বছরে ২ লাখ দক্ষ টেইলার প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যেখানে একজন দক্ষ শ্রমিককে প্রায় ৮ হাজার ইউয়ান (প্রায় ১,১০০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। (সুত্র: Global Times, ২০২৪)
ভারত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টেক্সটাইল খাতে ₹৫,২৭২ কোটি বরাদ্দ দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯% বেশি। ‘ন্যাশনাল স্কিল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ (NSTI) এর মাধ্যমে ২০ লক্ষ যুবককে প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ( সুত্র: ইনভেস্ট ইন্ডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া)

বাংলাদেশের অবস্থান
আমাদের শিল্প অনেক দূর এগিয়েছে, কিন্তু দক্ষতা উন্নয়ন ও পণ্যের বৈচিত্র্যে আমরা এখনও পিছিয়ে। তাই এখনই প্রয়োজন: বিজিএমইএ ও সরকারের অংশীদারিত্বে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন। শ্রমিক উন্নয়ন ও পণ্যের উদ্ভাবনে সরকারি অনুদান গ্রহণ। টেক্সটাইল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপে স্কিলড প্রফেশনাল তৈরি। হাই ভ্যালু গার্মেন্টস ও টেকনিক্যাল পোশাকের দিকে প্রডাক্ট ডাইভার্সিফিকেশন। ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি—শ্রমিক ও মালিকের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন ছাড়া উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায় না। আমি বিশ্বাস করি, শ্রমিকদের কল্যাণ, ট্রাস্ট ও ট্রান্সপারেন্সি-নির্ভর সম্পর্ক গড়ে তুললেই শিল্প হবে মানবিক, নিরাপদ এবং প্রতিযোগিতামূলক।
নির্বাচিত হলে আমি যেগুলোর জন্য কাজ করব:
শ্রমিকদের আপস্কিলিংয়ের জন্য সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন। এইচআর উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি। হাইভ্যালু প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টে সরকারি অনুদান ও সুযোগ নিশ্চিত। মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্থায়ী সংলাপের ব্যবস্থা। ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্স বজায় রাখতে ইনোভেটিভ পদক্ষেপ। তাই একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে আপনাদের মূল্যবাদ ভোট কামনা করছি।
লেখক: মঞ্জুরুল ফয়সাল হক, ব্যালট নম্বর: ৫৯
পরিচালক প্রার্থী, বিজিএমইএ নির্বাচন ২০২৫
প্যানেল: সম্মিলিত পরিষদ
পরিচালক, টেক ম্যাক্স লিমিটেড (স্টারলিং গ্রুপ)