লন্ডনে ছেলের বাসায় ‘আগের চেয়ে অনেকটাই বেটার আছেন’ খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থা এই মুহূর্তে স্থিতিশীল।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের একথা জানান।
তিনি বলেন, ‘‘ম্যাডামের চিকিৎসা উনার জ্যেষ্ঠ সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের বাসায় থেকে হচ্ছে। বাসায় তার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, সৈয়দা শর্মিলা রহমানসহ তিন নাতনি আছেন…. ব্যারিস্টার জায়মা রহমান (তারেক রহমানের মেয়ে), জাহিয়া রহমান এবং জাফিয়া রহমান (প্রয়াত আরাফাত রহমানের মেয়ে) তাদের দাদির টেইক কেয়ার করেছেন।”
‘‘ উনি মানসিকভাবে অনেকটাই বেটার আছেন। ডাক্তাররা তাকে বাসায় গিয়ে দেখে এসেছেন। তার শারীরিক অবস্থা এই মুহূর্তে স্থিতিশীল।”
গত ৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিতসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে। তার সঙ্গে থাকা অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘‘ আপনারা জানেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৮ জানুয়ারি থেকে লন্ডনে ‘দ্যা লন্ডন ক্লিনিক’ এর চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন। এ মুহূর্তে উনি উনার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বাসায় উনাদের তত্ত্বাবধানে অর্থাৎ প্র্রফেসর প্যাট্টিক কেনেডি, প্রফেসর জেনিফার ক্রস এবং ড. ব্যারেড উনাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।”
‘‘ বলতে পারেন, সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এখন বাসায় উনার চিকিৎসা চলছে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেগুলো করা দরকার মাঝে-মধ্যে তা হচ্ছে।
দেশবাসীসহ প্র্রবাসীদের বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতার জন্য দোয়া চান অধ্যাপক জাহিদ।
গত ৮ জানুয়ারি লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর আগেরদিন কাতারের আমিরের শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো রাজকীয় বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা থেকে লন্ডনের হিথ্ররো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে সরাসরি খালেদা জিয়াকে লন্ডন ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৫ জানুয়ারি লন্ডন ক্লিনিকের থেকে চিকিৎসদের ছাড়পত্র পেয়ে ছেলের বাসায় উঠেন।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।
‘ এখনই না, চিকিৎসকরা যখন বলবেন তখন’
কবে নাগাদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন এরকম প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন,‘‘ ম্যাডাম কবে নাগাদ দেশে যাবেন এটা এখানকার চিকিৎসকরা যেদিন উনাকে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেবেন বা উনাকে মনে করবেন যে, বিদেশ থেকে দেশে যাওয়ার মতো একটি অবস্থার মধ্যে আছেন তখনই ইনশাল্লাহ তিনি লন্ডন থেকে বাঙলাদেশে ফেরত যাবেন।”