ঢাকা: বর্তমান সরকারের ‘জনভিত্তি নেই, তারা শূণ্যের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন আবদুল মঈন খান।
রোববার ২১ জানুয়ারি বিকালে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘‘ আমি স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করে দিতে চাই, এই ৭ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনে এই সরকার চরমভাবে পরাজিত হয়েছে। তাদের পায়ের নিচে মাটি সরে গিয়েছে। আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেন… বাস্তব এই সরকার কি আরও পাঁচ বছর থাকবে? ”
‘‘ আমি তাদের উত্তরে বলি, ১৯৯০ সালের যেদিন এরশাদ সরকার এদেশ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তার একদিন আগেও কি সেই সরকার জানতো যে, এভাবে তাদের চলে যেতে হবে। জানতো না। আজকে আওয়ামী লীগ তাদের… যেকথাটা বলছি, জনগনই হচ্ছে একটি এদেশের সরকারের ভিত্তি। সেই জনগনের ভিত্তি আস্তে সরে গিয়েছে… আজকে আওয়ামী লীগ শূণ্যের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। যেকোনো মুহুর্তে এই সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হবে।”
মঈন খান বলেন, ‘‘আজকে আপনাদের উদ্দেশ্যে একটি কথা বলব, হ্যাঁ আমরা রক্ত দিয়েছি, রক্ত আরো দিতে হবে। আমরা রাজপথে আন্দোলনে রয়েছি, আমাদের রাজপথে আন্দোলনে থাকতে হবে। তবে এই আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপ্রিয় এবং নিয়মতান্ত্রিক।”
‘‘ আমরা বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি এদেশে ফিরিয়ে আনার আমাদের যে আন্দোলনের প্রক্রিয়া সেই প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক। আমরা নিয়মনীতিতে বিশ্বাস করি… বিএনপি লগি-বৈঠার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির এটাই হচ্ছে তফাৎ ।”
তিনি বলেন, ‘‘ সরকার কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয়। বাংলাদেশের সংবিধান স্পষ্টভাষায় বলে দিয়েছে, এই রাষ্ট্রের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এই রাষ্ট্রের মালিক হচ্ছে জনগন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে অমোঘ বানী তিনি বলেছিলেন, জনগন সকল ক্ষমতার উৎস। প্রতি পাঁচ জনগন তাদের সেই ক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট সময়ে পাঁচ বছরের জন্য কারো ওপরে তারা দেয় …. কেননা ১৮ কোটি মানুষ তো দেশ শাসন করতে পারে না।”
‘‘ সংসদে যাদের সংখ্যাগরিষ্ট প্রতিনিধি থাকে তারা একটি সরকার গঠন করে সেই সরকার যদি ভুল করে যে, আমরা চিরদিনের জন্য ক্ষমতা পেয়ে গেছে… সেটা আজকের সরকার মনে করছে। তাহলে কিন্তু তারা মারাত্মক ভুল করবে।”
সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।
১৯৩৬ সালে ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহন করেন জিয়াউর রহমান।
মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ফজলুর রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।